লুলীয় ডায়েরীর পাতা থেকে

22 ফেব্রু

হার্টবিট মিস আছে, মাগার ভার্সিটির বাস মিস নাই…!!! কারণ সময়, স্রোত এবং ভার্সিটির বাস কাহারও জন্য ওয়েট করে না। তাই সকাল পৌণে সাতটায় পরীর মা; আমার সবচেয়ে পেয়ারের বান্দুবীর Poke খাইয়া (পড়ুন মিসকল পাইয়া) উঠে পড়লাম। সাতটা বিশে রওনা দিলাম মেইন রোডের উদ্দেশ্যে। তারপরও শান্তি নাই, শ্রেকের লাহান বডি দুলাইয়া দৌড়াইতে দৌড়াইতে বাসে উঠলাম। মালয়েশিয়া যখন পৌঁছাইলাম, তখন মনে হইল টাই আনি নাই, আমারে তো স্যারে কেলাসই করতে দিব না! মালয়েশিয়া হচ্ছে আব্দুল্লাহপুরের মাছের বাজার, সদা কটু গন্ধ বিতরণ করে! যাই হোক, ফোন দিলাম বন্ধুরে এক্সট্রা টাই আনার জন্য। সে এনেছিল ঠিকই, কিন্তু তার মনে পরে গেল সে ভুলে পেনড্রাইভ রেখে এসেছে বাসায়। রিকশায় উঠলাম দুজন। যাইতে যাইতে দেখি, ভার্সিটির এক সিনিয়র লুল ভাই আরেক সিনিয়র লুল আফুরে লইয়া রিকশায় কইরা দাঁত কেলাইয়া একে অপরকে চিমটাইতে চিমটাইতে ভার্সিটির দিকে যাচ্ছে! কুন জায়গায় চিমটাইতেছে না-ই কইলাম!!

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ভাবতে ভালোই লাগে।

প্রথম ক্লাসের পর মিনিট বিশেক ছিল হাতে। প্রেমকাননে যাইয়া বইলাম। পাশেই সিনিয়র-জুনিয়র পুলাপান-মাইয়াপান আড্ডা চলছে। সিনিয়র পুলাগুলা চাকরি-বাকরি নিয়া হা-হূতাশ করতেছে, এমন সময় এক মাইয়া কইল, ‘ভাইয়া, চিন্তা কইরেন না, আপনারা চাকরি পাবেন। আমাদের বিয়ের সময়, রান্নাবান্না করার চাকরি।’

যাই হোক, শুরু হইল মার্কেটিং কেলাস। বিল্লি, ওরফে গ্যাদার মা, ওরফে অপু বিশ্বাস ঢুকল কেলাসে। ইহাকে টিজ করতে আমার বড়ই ভাল্লাগে। “মিয়াঁও” বইলা ডাক দিয়া উঠলাম। বড় বড় চোখ আরও বড় বড় করে সে তাকাইল আমার দিকে। আমি ততক্ষণে “আমার মত সুবোধ বালক এই দুনিয়ায় দুটি নেই” এর মত মুখ করে বসে আছি।

স্যার আইয়াই কম্পিউটারের সিপিউ অন করলেন। হার্ডডিস্ক ওপেন করামাত্র প্রজেক্টরের বড় পর্দায় ক্লাসবাসী দেখিল এক অভাবনীয় দৃশ্য!! পর্দায় বিক্ষিপ্ত কয়েকটা ফাইল দেখা গেল; ভিডিও ফাইল, নাম Porn, ফডুক ফাইল, নাম Sexy, একখান ফোল্ডার, নাম Secret, আরও একখান ফোল্ডার, তাতে হিজিবিজি করে জাপানি লেখা, লুলীয় লেখাই হবে হয়ত!

বলাই বাহুল্য, ভাইরাস।

পুলা-মাইয়াদের মাঝে চাপা গুঞ্জন শুরু হইল। স্যার আর কোনও ফাইল ওপেন করলেন না। আমরা ভাবসিলাম বাঁইচা গেছি, কেলাস ডিসমিস। মাগার কীয়ের কী! শুরু হইল আমগো পাপ-পূণ্যের হিসাব… ফার্স্ট টার্ম পরীক্ষার খাতা বিতরন!!!

সারা কেলাস অপু বিশ্বাসরে টিজ করলাম। বিলাইয়ের আদুরে ডাক, রাগান্বিত ডাক, মারামারির ডাক, বিলাইদের রণসঙ্গীত, কিছুই বাদ যায় নাই। এমনকি নাম ডাকার সময়ও মিঁউ কইরা রেসপন্স করছি।

কেলাস শেষে শাটল বাসে কইরা বাসায় যামু। ৭ আর ১১ নম্বর বাস যাইব। ৭ নাম্বার পুরাই ভর্তি। কিন্তু কয়েকটা বাস পেছনে ১১ নম্বর পুরাই ফাঁকা, কাকপক্ষীও নাই। আধুনিক পুলাপাইন তো, একটু হাঁইটা ফাঁকা বাসটার কাছে যাওয়ার কষ্ট করতে মুঞ্চায় না! উঠলাম ১১ নম্বরে। দেখলাম অপু বিশ্বাসও এই দিকেই আইতাছে। মনে করার চেষ্টা করলাম বাসা থেকে বাইর হওনের টাইমে সেটওয়েট মাইখ্যা আইছি নাকি… নাহ, আমি তো ইন্ডিয়ান প্রোডাক্ট ইউজ করি না। রেক্সোনা তো দূরের কথা, গতকাল গোসলই করি না!!

তাহলে অপু বিশ্বাসের এইদিকে আগমনের হেতু কী? আমারে কি একা পাইয়া…ডট ডট ডট??

অপু বিশ্বাস বাসে উঠিয়াই কইল, ‘বাসে কেউ নাই কেন! বাস কি যাবে না?’
আমি চামে কইলামঃ ‘ক্যা, আমি আছি, আমারে পছন্দ হয় না?’
সে বসতে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। ‘একী! বাসের সিট ভেজা কেন?’ আমি কহিলাম, ‘সামনে মহিলাদের জন্য সীটে যাইয়া বহ।” অপু বিশ্বাস খেঁকাইয়া কইল, ‘আমাকে কোন এঙ্গেলে তোমার মহিলা মনে হয়?’
-’সব এঙ্গেলে!’
-’তোমার চোখে সমস্যা আছে!’
-’কুনু সমইস্যা নাই! আমার চোউখ এক্কেরে ফকফকা ফ্রেশ!’
-’হান্ড্রেড পারসেন্ট সমস্যা আছে। নাইলে ফেসবুকে আমার এত্ত কিউট ফটোগুলোতে এত পচা পচা কমেন্ট করতে না! তোমার তো পুরা বডিতেই সমস্যা!’

আমি থমকে গেলাম, পুরা ভার্সিটির মধ্যে আমারটার মত এত কিউট ভুঁড়ি আর কারও নাই, আর আমাকে বলে এই কথা!

আমি কইলাম, ‘তুমি কি আমাকে মেডিক্যাল এনালাইজ করে দেখেছ?’
-’এনালাইজ করে দেখা লাগে না, এমনিই বুঝা যায়!’
-’এমনি বুঝাইলে হইবে না, মেডিকেল রিপোর্ট দেখাও, আমার ওজন তোমার চেয়ে কত বেশি।’
-’আমাকে মহিলা যে বললা, সেইটের রিপোর্ট আগে দেখাও।’
-’ওটা আমার ল্যাপটপে আছে।’
-’তাইলে তোমার রিপোর্টও আমার ল্যাপটপে আছে!’
-’তোমার আবার ল্যাপটপ আছে নাকি? ওইটাকে তো ল্যাপটপ বলে না, ওটা হচ্ছে চাচা চৌধুরীর সুটকেস।’
-’আমার ল্যাপটপ আছে কি নাই সেটা তুমি জানো ক্যামনে? তুমি আমার বাসায় গেছো কখনও?’
-হ্যাঁ গেছি তো! কেন, খালাম্মা কয় নাই? উনি তো আমাকে জামাই আদর করছিলেন অইদিন!’
-’আমার আম্মুর চোখ এখনও এত খারাপ হয়নাই যে তোমাকে জামাই আদর করবে!’
-’করবে না কেন! তোমার আম্মুর চোখ হইল জহুরির মত, উনি হীরা চেনেন। আফসুস, তুমার জহুরীর চোখ নাই!’
-’তুমি? হীরা? হুহ!’
-’আমি হীরা না, হীরার খনি।’
-’ধ্যাত বাল! ভাল্লাগে না!’

আমি জানালার বাইরে মাথা বাইর কইরা ডাক দিলাম, ‘অই জাপান! জাপান! ডাইরেক্ট জাপান!’
-’হ্যাঁ এইত। তোমাকে এইভাবেই দেখতেই ভাল্লাগে।’
-’তোমার জামাই তোমাকে এইকাজ করেই খাওয়াবে বুঝি? ব্যাপার না, শ্রমসাধ্য সকল কাজই সম্মানের।’

আমার ডাকে সাড়া দিয়ে পুলাপান বাসে উঠে পড়ল। তাও ডেরাইভার মামা আসে না! কাহিনী হোয়াট?

আমি নেমে দেখতে গেলাম কাহিনী হোয়াট? মামা দেখি বিঁড়ি ফুকতাছে। আমি ব্যাক করলাম। অপু বিশ্বাস জিগাইল,’মামা কই?’ কইলামঃ ‘মামা কইল তুমারে গাড়ি ইস্টার্ট দিতে, উনি আইতাছেন।’

বাস জসিমউদ্দিন আইতেই শেষ রকেট রেডি করলাম। সে নামবে এপার, আমি ওপার, এবং প্রথমে সে। সে নামার সময়ই রকেটটা ছাইড়া দিলাম… “মামা, ব্রেক… মহিলা নামবে…!!!”

সে ঠোঁটে মিচকি হাসি ঝুলাইয়া নেমে গেল!!

চলচ্চিত্র বিষয়ক ই-বুক “এক মুঠো চলচ্ছবি”

22 ফেব্রু

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২তে প্রতীতি প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে চলচ্চিত্র বিষয়ক ই-বুক “এক মুঠো চলচ্ছবি” এর দ্বিতীয় সংখ্যা। বাংলাদেশের সেরা মুভিবিজ্ঞানী এবং রিভিউয়ারদের লেখার সাথে এই নগণ্য সিনেমাখোরেরও দুটি লেখা স্থান পেয়েছে বইটিতে। আমার ব্লগীয় পরিচিতি, ‘কালো হিমু’ নামে লেখাগুলো পাওয়া যাবে।

ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://www.mediafire.com/?n0s7trajnc3n6er

ট্যাগসমূহ :,

ভ্যালেন্টাইনস ডে’র লুলীয় ডায়েরি!!!

14 ফেব্রু

শুরুতেই কুফা!!!

পরীর মা, আমার সবচেয়ে খাতিরের বান্ধুবী, আমাকে সকালে যখন ডেকে দিল, তখন বাজে ৭টা। বিশ মিনিটের মাঝে বের না হলে ভার্সিটির বাসের আশা নেই, ভাবতেই ক্যোঁৎ করে ঢোক গিললাম। ফ্রেশ হয়ে শার্ট-প্যান্ট পড়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে টাই বাঁধতেছি, ভঙ্গীটা এমন, যেন আমি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর এইচআর ম্যানেজার। আব্বু কম্বলের তলা দিয়ে উঁকি মেরে আমার ব্যস্ততা লক্ষ্য করছে… নাহ, আইজকা পকেট মারার চান্স নাই!! পকেট মারলেও লাভ নাই, প্রেমিকার পিছনে খরচ করার জন্য আগে প্রেমিকা দরকার, আমার সেইটাই নাই।  যাই হোক, ফরমাল শার্ট প্যান্টের লগে টাই ঝুলাইয়া, মাইকেল জ্যাকসন হ্যাট দিয়া মাথার কাউয়ার অ্যাপার্টমেন্ট ঢাইকা বাইর হইলাম। চারসিটের অটোরিকশা আমারে দেইখা আগাইয়া আইল। ভেতরে একজন যাত্রী, অবশ্যই রমণী, যে আমার মতই অভাগা স্টুডেন্ট যাদের ক্লাস থাকে সকাল সাড়ে আটটায়। পার্ট দেখাইয়া অটোতে উঠতে যাব, হাত থেকে আমার সাধের ঘড়িটা চামড়ার বেল্ট ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে গেল। আমার মনে হইল রমণীর সামনে কেউ আমার লুঙ্গি ধইরা টান দিছে!!

ভার্সিটির বাসে উঠলাম। দূরপাল্লার দশাসই বাস। সামনে ফ্যাকাল্টিরা বসেন, তাই হৈচৈ সব পেছনেই হয়। আমি পিছনে গিয়া আমার দুস্তের লগে বইলাম। আশেপাশের পুলাপান “চলে গেছ তাতে কী” কোরাসের সুরে গাইতেছে। এয়ারপোর্টের একটু আগে আমগোর বাসের পাশে আইলো বলাকা চিটিং সার্ভিস। ওই বাসের ভিতরে আবার দুইটা কলেজপড়ুয়া মাইয়া। ইউনিফর্ম দেইখা বুঝলাম, মাইলস্টোন কলেজের ছাত্রী। ব্যাস, পুলাপাইনরে আর পায় কে!! …”হৈ হৈ…আফু… আইলাবিউ…”। সামনে এয়ারপোর্ট ছাড়াইয়া জসিমউদ্দিন রোডের একটু আগে পড়ল জ্যাম। পুলাপান আশায় বুক বাঁধল, যদি ওই সুন্দরীদ্বয়কে আবার দেখা যায়! কিন্তু না, বলাকার ড্রাইভার আর গাড়ি টানল না। জ্যামে আমগো বাসের বাম পাশের রাস্তা পুরা খালি রাইখা পিছনে ওই বাস দাঁড় করাইলো। জ্যাম ছাড়তেই বলাকা আমগো ওভারটেক কইরা দৌড় দিবার চাইল, পুলাপান হৈ হৈ কইরা উঠল, সুন্দরীদ্বয় পুলাপানগো দিকে চাইয়া ভেটকি মাইরা প্রশ্রয়ের হাসি দিল। উইউই!! পুলাপান কাইত!! চশমা পড়া সুন্দরীর হাসিডা আমার দিলে গিয়া লাগল, তয় আমি সিনিয়রের মত পার্ট লইলাম। ওইসব বাচ্চাপুলাপানদের কাজ, এমন ভঙ্গী।

জসীমউদ্দিনে ভাসাবি শাড়ির বিলবোর্ডে স্বল্পবসনা মডেলরে দেইখা একটা দীর্ঘশ্বাস ফালাইলাম… এই পরীগুলান আহে কইত্তুন?

যাই হোক, ওই স্টপেজ থেকে আমার দুই জিগারি দোস বাসে উঠল। এখন আবার কিসের পার্ট!! শুরু হইল আমগো শয়তানী, আইজকার দিনে শয়তানি করন জায়েজ!!!

-”ওই তোরে না কইসিলাম আইজকা টিশার্ট পইড়া আবি?” কটকডি জিগাইল আমারে।
-”দুস, আমার টিশার্ট নাই।” ভালো মানুষের মত মুখ কইরা কইলাম।
-

অ্যাকচুয়ালি, টিশার্ট পইড়লে আমার ভুঁড়িখানা আরও বেশি কইরা তার অস্তিত্ব জানান দেয়, হেইডা আর কইলাম না।

কেলাসে ঢুইকা কটকডি কইল, “কমলারে দ্যাখ, বেচারি একলা একলা বইছে, বয়ফ্রেন্ড আইনাইক্কা। চল হ্যাতারে টাইম দেই।” কুমলা হইতেছে আমগোর সিনিয়র আফা। তায় হেব্বি মেজাজি, কাঁচা মরিচ। আমরা তিন লুল গিয়া বইলাম একদম হ্যাঁতের পাশে। তার ভ্রূ শেয়ারমার্কেটের সূচকের ন্যায় উঠানামা করছে। আমি তাকাইলাম পাশের সারির দিকে। আহ! অসাম চৌধুরি! এই মেয়েটা আমার জন্য পারফেক্ট আছিল, কিন্তু হায়, সে বিবাহিতা, একটা পিচ্চি মাইয়াও আছে। কুমলা ভাবল আমি তার দিকে চাইয়া আছি, সে চোখ গরম কইরা তাকাইল। আমি তৎক্ষণাৎ স্যারের দিকে তাকাইয়া জান বাঁচাইলাম।

ক্লাসের আধাখান শ্যাষ। এমন সময় আমগো ছুন্দরী ক্লাসমেট অপু বিশ্বাস ঢুকল। উইউই! লাল জামা পইড়া আইছে, ছাকিব খানের লগে ডেটিং আচে! কেলাচরুমে পা রাখার সাথে সাথে সবার অগোচরে আমি টুইট কইরা শিষ দিয়া উঠলাম। মনে মনে নিজের পিঠ চাপড়াইতেছি, শিষ দিছি কেউ দ্যাখেনাই। আক্তা পিছে দিয়া আরেক সিনিওর আফু কইয়া উঠলঃ “ছিঃ হিমু! খারাপ হয়ে যাচ্ছ, না?”

কিরামডা লাগে?

যাই হোক, স্যার ইয়াং মানুষ, আমাদের দুঃখু বুঝেন, তাই উনি কিছু কইলেন না। উনি অপু বিশ্বাসের সম্মানে ৫মিনিট বিরতি দিয়া ভালোবাসার আলাপ-আলোচনা কইরলেন। (বুঝছেন?)

ক্লাস শেষে রোল কল। অপু বিশ্বাসের নাম ডাকতেই “মিঁআও” কইরা ডাক পারলাম। মজাই মজা। :P :P

ক্লাস শেষ কইরা ক্যাম্পাসে আইতেই সেই রূপবতীর দেখা পাইলাম। লাল জামা পড়ে বান্ধুবীদের লগে ক্যাচরক্যাচর করায় ব্যস্ত। আমার বুকের বাম পাশের হাড্ডিটা কটকট কইরা উঠল। ইরাম রোমান্টিক মোমেন্টে দুই বদমাশ বন্ধু আমারে হিড়হিড় কইরা টাইনা নিয়া গেল। এরপর সারাদিন আর রূপবতীর দেখা পাইনি।

দিনশেষে পার্টিইইই!!!!!

ভ্যালেন্টাইন কি শুধু পুলা-মাইয়াগো? দোস্তগো না?

তিন গোয়েন্দা গেলাম রাজলক্ষ্মীর পেছনে, যা কাবাব-পরটার জন্য আমগো কাছে ফেমাস!! কিন্তু ব্যাড লাক! অস্থায়ী দোকানগুলো সব বন্ধ। বুঝলাম, কাবাব-পরটা আইজকা ভাগ্যে নাই।

আপাতত ফুচকা খাইলাম।

মিষ্টি পান খাইতে গেলাম যখন, সন্ধ্যা ৭টার কাছকাছি। আমারে টাশকি খাওয়াইয়া রাস্তার ওপার থেকে পরী নেমে এলো এপারে। ও এম জি! সেই রূপবতী!!!

বুকটা কটকটাইয়া উঠল।

রূপবতী আমারে না দেখিয়া গটগটায়া হাঁইটা চলে গেল।

তার দিক থিকা নজর ফেরাতেই দেখি টুনটুনির জামাই আমার দিকে সন্দেহ সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। ব্যাপার হচ্ছে, তার এক দুঃসম্পরকের ভাগ্নিকে আমি ভীষণ লাইক করি। তাহাকে পাইলে আমার ইহজগতের আর কুনু রূপবতীর দরকার নাই। আমি লুল হইলেও নীতিবান। কথার দাম আছে।

কিছুক্ষণের মধ্যে জানতে পারলাম, দুঃসম্পর্কের না, ও টুনটুনির জামাইএর আপন ভাগ্নি।

জানামাত্র আমার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের রশি ছিঁড়ে গেল। হাতে ব্যাগ ঝুলাইয়া কনফিউসড বেরেন লইয়া বাসায় আইলাম।

হুনছি, কিরিকেটার রাজিন সালেহ নাকি তার ফেরেন্ডের আপন ফুফুরে বিয়া কইচ্ছেন। সেইটেই ভরসা।

 

আপডেটঃ ইয়ে… ভাসাভি ওইটা শাড়ি না, জুয়েলার্স! মানে মডেলের পড়নের শাড়িটা বিলবোর্ডে কানের দুলের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে; কানের দুলটাই একমাত্র গয়না!

ট্যাগসমূহ :

বসন্ত বাতাসে সই গো… (লুল পুস্ট)

14 ফেব্রু

ভার্সিটিতে পৌঁছাইয়াই চমৎকৃত হইলাম!! 8-| যতদূর চোখ যায়, হলুদ শাড়ি পড়া মিস ইউনিভার্সরা ঘোরাঘুরি করছে!!! :P :P
ধাতস্থ হইতে সময় লাগল। ক্লাসে ঢুকে আরও টাশকি খাইলাম। :-*আমাদের ক্লাসমেট, মিচ চোনিয়া, হিমি হয়ে গেছে :-* (মহিলা হিমু, তয় হইলদ্যা, কাইল্যা না /:) )!! মুখোমুখি হইলাম আমার দুস্ত, ভাবির জামাইএর লগে। দাঁত কেলাইয়া সে কইলঃ “শুভ ফাল্গুন। :D :D :D ” বিদ্যুৎ চমকের মত মনে হইল, আব্বে হালায় আইজ তো পয়লা ফাল্গুন!! আমিও দাঁত কেলাইয়া ভাবির জামাইরে কইলামঃ “হ্যাপ্পি বসন্ত, ম্যান! হ্যাপ্পি বসন্ত!!” B-)) B-)) B-))

আগমন ঘটল সাবেক বিল্লি, ওরফে গ্যাদার মা’র, যার বর্তমান উপাধি অপু বিশ্বাস। :P নাহ, শাড়ি নয়, সালওয়ার-কামিজেই হইলদ্যারাণী সাইজা আইছে। :#) তার পিছন পিছন আইল আনোয়ারা বেগম এবং কানি বেগম (আসল নাম নহে, আড়ালে আবডালে ডাকা হয়)। :P ক্লাসে প্রবেশ করেই সুন্দরীত্রয় ঠিক আমার পেছনে আসন গ্রহণ করল। খেয়াল হইল, অপু বিশ্বাসের কানে সোনালি রঙের চতুর্ভুজাকৃতির দুল। তাকে শুনাইয়া আমার পাশে বসা ভাবির জামাইরে কইলাম, “দুস, দ্যাশ তো আগাইয়া যাইতেছে… মাইয়াপানরা আজকাল কানে সোলার প্যানেল লাগাইয়া ঘুরে!” =p~ =p~ =p~

ম্যাডামের আগমণ। আমার চক্ষু চড়কগাছ!! :|| বসন্তের হাওয়া ম্যাডামের গায়েও লাগছে!!! ম্যাডামের বৈশিষ্ট হল, উনি হাসতে হাসতে বাঁশ দেন। :-0 উনি রোল কল করে আমার দিকে হাসিমুখে এগোলেন। তার হাসি এতই মিষ্টি, যাকে উদ্দেশ্য করে হাসবেন, তার একদিনের জন্য ডায়াবেটিস হয়ে যাবে। :> আমি অস্বস্তিতে টাইএর নট ঢিলে করে খাতা খুলতে গেলাম। উনি এক আঙ্গুল দিয়ে খাতা বন্ধ করে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “বলো, র‍্যান্ডম ভেরিয়েবল কাকে বলে?” আমি অসহায়ের মত হাসি দিয়ে ভ্যাবলার মত ম্যাডামের দিকে তাকালাম। :|

সেমিস্টার শেষে ম্যাডামকে নিয়ে পোস্ট দিমুয়ানে। :#)

কেলাস শেষে দেখি, কানি বেগমের সাথে পরীর মা আর মিচ চোনিয়া জামাত কইচ্ছে। আমিও জয়েন করলাম। B-) সাথে সাথে দেখা আছিক দ্য ফডুকম্যানের সাথে। সবার সাথে হ্যান্ডশেক করতেছে। কানি বেগম, পরীর মা আর মিচ চোনিয়ারে এডভান্সড ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র শুভেচ্ছা জানাল, “আজকের জন্য, আই লাভ ইউ, ভাই হিসাবে।” B:-) B:-) এরপর আমারে সেইম কতা কইল। আমি কইলাম, “দূর হালা! তুই গে নাকি?” X(( X(( =p~ =p~

সবশেষের বোরিং ক্লাস করে বাইর হইলাম। সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে হইলদ্যা হিমি, মিচ চোনিয়াকে মনের সুখে বান্দুবী-টিজিং কইরলাম। আহাহাহা! :#) :#) :#) চোনিয়া পাখি, ছোনার বরণ, পাখিরে ছাড়িল কে! :-P :-P :-P

ক্যাম্পাসে ঢোকামাত্র দেখিলাম তাহাকে! :-/ আমার হৃদপিণ্ড তৎক্ষণাৎ হাইজাম্প দিয়ে উঠল! :-/ :-/ সেই রূপবতী!! :-/ :-/ :-/

হালকা হলুদ রঙের শাড়ি পড়েছে। সর্বাঙ্গ দিয়ে রূপ ঝরে পড়ছে, ওয়েল্ডিং করার সময় স্ফুলিঙ্গ যেমন ঝরে! :| :|

সেই অনুভূতি ব্লগব্লগাইয়া বুঝান যাইব না!! /:)

কাকতালীয়ভাবে রূপবতীর সাথে একই বাসে উঠলাম। দূরভাগ্যক্রমে সে বইল সামনের সিটে, আমি গাঁতায়া-গুঁতায়া এক্কেরে পিছের সীট দখল কইরা বইলাম। :(( আব্দুল্লাহপুর টু জসিমুদ্দিন যাত্রার পুরো সময়টা রূপবতীর খোঁপার দিকে হাঁ কইরা চাইয়া থাকলাম। বন্ধু কটকডি আরিফ আমার ভুঁড়িতে চিমটা দিয়া কইল, “চাপা বন্ধ কর হালা। মাছি ঢুকবো।” X(

ভুঁড়িতে “স্বপ্ন-ভাঙ্গানিয়া” নিষ্ঠুর চিমটি খাইয়া বাস্তবে ফিরে আইলাম। আহহারে! রূপবতী আর আমার বাবুটুকুন পর্যন্ত কল্পনা করে ফেলেছিলাম! /:) /:) /:)

পরে জসীমেউদ্দিনের আড্ডায় বন্ধু কটকডি আরিফরে কইলাম, “দুস্ত, আই থিঙ্ক আই হ্যাভ ক্র্যাশড ওভার সামওয়ান।” :`> :`> :``>> :``>> :-B

কটকডি আমার দিকে ঠিক এই ইমোটার মত করে তাকালোঃ /:) /:) /:)/:) /:) /:) /:)

আমাদের শোকগাঁথা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমীপে

12 ফেব্রু

অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে, টিভিতে নিউজ দেখি না। বাসার কেউ নিউজ দেখতে বসলে পাশে আমার ঘর থেকে শুধু শুনি, আর ল্যাপ্টপের স্ক্রীনের সাথে চোখে আঠা লাগিয়ে রাখি। এই আমিও মেহেরুন রুনির নাম শুনেছি। আজ সকালে যখন তার ছবি দেখলাম, চিনেও ফেললাম। নাহ, হাতে গোণা কয়েকজন মুখচেনা রিপোর্টারদের মধ্যে উনি আছেন।

সহব্লগার সাগর ভাই ব্লগ লেখেন না বহুদিন। তাঁর ব্লগে বেশি যাইনি, করিনি মন্তব্যও। আমি জানতামও না তিনি মেহেরুন রুনির স্বামী। আজ যখন তাঁর শেষ পোস্টে প্রথম মন্তব্য করলাম, আঙ্গুলগুলো ফসকে যাচ্ছিল। বেমানান মন্তব্য একটা, এ মন্তব্য করার কথা নয় অদ্ভুত রসিক পোস্টে।

………………………“সাগর ভাই… আমার হাতও শোকাহত, আপনার ব্লগে টাইপ করে মন্তব্য লিখতে খাবি খাচ্ছে। আল্লাহ আপনাকে আর ভাবিকে জান্নাতে নসিব করুন।”

মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক, আমাদের সহব্লগার সাগর সরোয়ার এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি’র নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ঘটনা প্রথম পড়ার পর আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম।

তাদের সন্তান, মেঘ, ৫ বছরের নিষ্পাপ বাচ্চা ঘুম থেকে উঠে দেখলো তার বাবা মায়ের রক্তাক্ত লাশ। এরচেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু কারও জীবনে ঘটতে পারে?

ছেলেটা এখন জীবন শিখবে কার কাছ থেকে?

ছেলেটা কার কাছে বায়না করবে?

তার ভবিষ্যত কী?

সে ভয় পেলে কাকে ডাকবে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনাকে?

ভুল করেও না। আপনি তার কাছে একটা দুঃস্বপ্ন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এটা কী বিরোধীদলের বিক্ষোভের নামে হত্যা, না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এবারও আপনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পার পেয়ে যাবেন। এই ঘটনার বিচার হবে কীনা জানিনা। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা বলে উপরে একজন আছেন। তার কাছে আপনি কী জবাবদিহি করবেন?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনি যখন আপনার নির্বাচনী এলাকায় আসেন, আমজনতা আপনার গাড়ির দিকে কীভাবে তাকায় তা খেয়াল করেছেন? অবশ্য আপনার দামি গাড়ির জানালার কালো কাঁচ ভেদ করে বিষদৃষ্টি অনুভূত না হওয়ারই কথা।

শেষ প্রশ্ন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর কয়টা লাশ পড়লে আপনি পদত্যাগ করবেন?


ফটোঃ ইঞ্জিনিয়ার জনি, অপ্রকাশিত’এ পোস্টকৃত

ট্যাগসমূহ :,